আবার ফিনল্যান্ডে কটাদিন ( AGAIN IN FINLAND)

আবার ফিনল্যান্ডে কটাদিন ( AGAIN IN FINLAND)

Jpeg

ফিনল্যান্ড ১ ( ২৯/০৭/২০১৬)

২৬/০৭/২০১৬ সকাল ১১.৪০ মিনিটে দমদম এয়ারপোর্ট থেকে রওনা হয়ে দিল্লী পৌছালাম দুপুর ২.২০ মিনিটে বাইরে বেরোনোর সময় জানতে পারলাম ট্যাক্সি আর অটো দুটোই স্ট্রাইক ওলা আর উবেরের বিরুদ্ধে প্রায় সব রাজ্যেই চলছে এই আন্দোলন ওলা ও উবেরের জন্য ট্যাক্সি আর অটোর ব্যবসাতে সব জায়গায়ই টান পরেছে যাইহোক একটা গাড়ির ব্যবস্থা হলো চললাম হোটেলে পরদিন সাড়ে দশটায় আমাদের প্লেন ছাড়বে সোজা হেলসিঙ্কি দুঘন্টার একটু আগেই পৌছে গেলাম এয়ারপোর্ট বোর্ডিং পাস নিয়ে , লাগেজ জমা করে এগোলাম ইমিগ্রেশনের জন্য তারপর সিকিউরিটি চেক সেরে অনেকটা হেঁটে ১০ নম্বর গেটের কাছে গিয়ে অপেক্ষায় রইলাম ঠিক সাড়ে দশটায় রওনা হলাম দিল্লী থেকে হেলসিঙ্কি পৌছালাম ওদের সময় অনুসারে ঠিক তিনটে পাঁচ মিনিটে অর্থাৎ আমাদের সময় অনুসারে বিকাল ৫ টা ৩৫ মিনিট প্লেনে বসেই শুনতে পেলাম আমদের যাত্রাপথ হবে ৫৬০০ কিলোমিটার দিল্লি থেকে আফগানিস্থান ও মস্কোর আকাশপথ ধরে সোজা হেলসিঙ্কি একসময় টিভিতে দেখতে পেলাম আমরা ৩৮০০০ ফিট ওপর দিয়ে যাচ্ছি বাইরের তাপমাত্রা তখন ৫২ডিগ্রী সেন্ট্রিগ্রেড আমাদের প্লেনের গতি ছিল ঘন্টায় ৮৭৮ কিলোমিটার এক লাইনে ৮ জন করে বসার জায়গা চারশোর ওপরে যাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগই ভারতীয় এয়ারপোর্টে ছেলে অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য গাড়ি নিয়ে বাইরে বেড়িয়ে দেখি ঝকঝকে আকাশ যেদিকে তাকাই নীল আর নীল সূর্যের আলো দেখে মনে হচ্ছে দুপুর দুটো গতবার ২/১১/২০১৫ তারিখ লন্ডন থেকে ফিনল্যান্ড এসেছিলাম তখন শীতকাল দেখেছি বিকাল ৩ টার মধ্যেই সূর্যদেব ঘুমিয়ে পড়তেন কিন্তু এখন শুনলাম ভোর ৪ টা থেকে রাত ১১ টা অবধি ওনি জেগে থাকেন আর ১১ টা থেকে ৪ টাও পুরো অন্ধকার হয়না , গ্রহনের সময়কার মত আলো থাকে গতবার শীতের সময় গাছের পাতা সব ঝরে গেছিল , গাছের রঙ ছিল সাদা , প্রচুর বরফ পেয়েছিলাম এবার সবুজ রঙের আস্তরণে সারা শহর ঢাকা পরেছে সত্যি সত্যিই নানা রঙের ফুল বলছেধন্য আমি মাটির পরে গতবার ঘাসের রঙ ছিল সাদা আর এবার ঘাস তার নিজের রঙ ফিরে পেয়েছে যেহেতু এখানে এখন সামার চলছে , সবাই যেন বাঁধন হারা পক্ষী ঘরে থাকতে কারো মন চাইছে না রাস্তায় প্রচুর লোকজন দেখা যাচ্ছে মনে হচ্ছে , কি আনন্দ আকাশে বাতাসে সবাই প্রাণ ভরে উপভোগ করছে সময়টাকে এখানকার সামার আমাদের বসন্ত ও শীত কাল কাছেই বাড়ি তাই পৌছে গেলাম তাড়াতাড়ি

গতবার ছিলাম হেলসিঙ্কি এবার আছি এসপো হেলসিঙ্কির গায়ে লাগানো এই শহর একটা দিন শুধু ঘরে বসেই কাটিয়ে দিলাম শরীরটাকে এখানকার মত মানিয়ে নেবার জন্য বিকালে ১৫মিনিট হেঁটে পৌছে গেলাম সমুদ্রের ধারে এখানকার সৈকত খুব একটা বড় না বাচ্চারা সমুদ্রের জলে লাফালাফি করছে কারণ ঢেউ নেই বললেই চলে বালিতে রোদের মধ্যে অনেকেই শুয়ে আছে এই সময়টা এখানকার সবাই যতটা পারে শরীরকে রোদের মধ্যে রাখে কারণ শীতকালে সূর্যের আলো খুব কম সময়ের জন্য থাকে এবং তেজও থাকে অনেকটা কম সমুদ্রের ধারের রাস্তায় জগিং করতে দেখলাম অনেককেই এমনি করেই সময় বয়ে যাচ্ছিল চমকে উঠলাম ঘড়ি দেখে রাত দশটা বাজে অথচ বোঝার উপায় নেই সূর্যের আলো দেখে মনে হচ্ছে পড়ন্ত বিকেল

20151124_082104

ফিনল্যান্ড ২ ( ৩১/০৭/২০১৬)

রাত্রে গরম গরম আটার রুটি, আলু ফুল কপির তরকারী ও হাতে বানানো নারু খেতে খেতে হঠাৎ ছেলের কাছে ওর বন্ধুর ফোন আসলো আগামীকাল পিকনিকে যাবো কিনা ? মালদা থেকে ওর শ্বশুর – শ্বাশুড়ি এসেছে সবাই মিলে একসাথে যেতে চায় আমরাতো সব ব্যাপারে হাত উঠিয়েই আছি ঠিক হয়ে গেল আমরা সকাল সকাল বেড়িয়ে পরবো কিছু খাবার নিয়ে এখান থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে একটা দারুন পিকনিকের জায়গা আছে শুনলাম জঙ্গল , লেক এবং ছোট পাহাড় , সবই আছে জায়গাটার নাম নুউক্সিও (NUUKSIO) ওখানে রান্না করতে দেবে না , নিয়ে গিয়ে খাওয়া যাবে ভোর ভোর উঠে কিছু খাবার বানিয়ে নিলেই হবে , তাই আপাতত চললাম বিছানায় নুউক্সিওতে পৌছে দেখি ওরা চারজন পার্কিংয়েই দাঁড়িয়ে আছে আমাদের একটু আগে ওরা পৌছেছে আমরা তিনজন আর ওরা চারজন একসাথে জিনিষ পত্র নিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম এখানে পার্কিংএর জন্য ও জঙ্গলে ঢোকার জন্য কোনো মূল্য দিতে হয় না ভালই ভিড় শনিবার সব ছুটি, তার উপরে এখানকার সামার দলে বেঁধে সব বেড়িয়ে পরেছে আনন্দ উপভোগ করতে অনেকের সাথে আমরাও জঙ্গলের রাস্তা ধরে এগোলাম একটু এগোতেই নজরে পরলো গাছের গায়ে লাল , নীল আর হ্লুধ রঙ করা তিনটে কাঠের টুকরো লাগানো আছে যেহেতু মন সবসময় জানার মাঝে অজানাকে সন্ধান করে তাই জানতে চাইলাম ছেলের কাছে ও বললো এই জঙ্গল ঘেরা পাহাড়ে অনেককটা ট্রেকিং রুট আছে জঙ্গলে যাতে কেউ রাস্তা না হারিয়ে ফেলে তার জন্য এই ব্যবস্থা লাল , নীল আর হ্লুধ রঙের আলাদা আলাদা কাঠের টুকরো জঙ্গলের মধ্যে বিভিন্ন গাছে লাগানো আছে রাস্তা চেনানোর জন্য তাইতো বেশ কজনকে দেখলাম পিঠে স্যাক , টেন্ট আর স্লীপিং ম্যাট নিয়ে যেতে জঙ্গলের মধ্যে বিভিন্ন রঙের মাশরুম বা বেঙের ছাতা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হঠাৎ নজরে পড়ল ছোট ছোট গাছে প্রচুর পাকা ব্লু বেরি কোনদিন খাইনি তাই ঝাপিয়ে পরলাম অরণ্যের অধিকার তাকিয়ে দেখি আমি শুধু একা নয় , ওদেশের লোকও আছে কয়েকটা মুখে পুরে আবার হাটতে লাগলাম একটা রাস্তা সোজা উপরে উঠে গেছে আর একটা ডান দিকে গিয়েছে বেঁকে ডান দিকের রাস্তা ধরে এগোতে লাগলাম ঝাউ আর ব্লু বেরি গাছ ছাড়া আমাদের কাছে নাম না জানা গাছের সংখ্যাই বেশি শুনলাম এটা নাকি ফিনল্যান্ডের জাতীয় উদ্যান ৪৩ টা ছোট বড় মিলিয়ে লেক আর জলাভূমি অনেকটা জায়গা দখল করে আছে একদিক থেকে আরেকদিকে যাওয়ার জন্য জলের ওপরে কোথাও আছে ভাসমান সেতু , আবার এমনি সেতুও আছে দূরে ছিপ নিয়ে একজনকে মাছ ধরতেও দেখলাম লেকের জলে দেখলাম বেশ কিছু পরিযায়ী পাখি যেটা আমরা দেখতে পাই আমাদের দেশে শীতকালে ওদিকে আর না এগিয়ে আমরা কিছুটা ফিরে এসে যে রাস্তাটা ওপরের দিকে গেছে সেইদিকেই হাঁটতে লাগলাম ছোট পাহাড় পাহাড়ে চড়ার অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকদিনের এবং আনন্দেরও তর তর করে উঠতে লাগলাম কিছুটা উঠতেই চোখ জুড়িয়ে গেল পাইন গাছে ঘেরা সুন্দর একটা লেক জলের উপর ভাসছে অসংখ্য পদ্মপাতা লেকের পাশে তাঁবু খাটিয়ে একদল ছেলে মেয়ে আনন্দ করছে কেউ কেউ আগুন জালিয়ে খাবার গরম করছে আগুন জালানোর কাঠ এখানে বিনা পয়সায় পাওয়া যায় জঙ্গলের মধ্যে বেশ কটা টয়লেট বানানো সবার চেষ্টায় সবসময়ই পরিস্কার আমরা বাড়ির থেকে অভ্যাস মত বিছানা চাদর এনেছি তাই লেকের পাশে বিছিয়ে আড্ডা মারতে বসলাম আর কাউকে বিছানার চাদর পেতে বসতে দেখিনি শুনলাম এই লেকের জল শীতকালে বরফ হয়ে যায় তখন সবাই এর উপর দিয়ে যাতায়াত করে চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বিভিন্ন দলে সবাই আনন্দ করছে আমদের দেশের পিকনিকের মতোই নেই শুধু বিভিন্ন মাইকের আওয়াজ আমাদের দেশে দেখেছি বেশিরভাগ সময়ে অহেতুক শাসন ছোট বাচ্চাদের স্বাধীনভাবে আনন্দ করতে দেয় না এখানে ছোট বাচ্চাদের অপরিসীম আনন্দ দেখতে খুব ভালো লাগছিল আর রাগ হচ্ছিল আমদের দেশের অতিরিক্ত শাসন প্রিয় বাবামার প্রতি প্রাকিতিকভাবে বাচ্চাদের বড় হওয়া যে কতটা দরকার সেটা আমরা অনেকেই করতে দিই না তোতা কাহিনী নির্ভেজাল আড্ডা ,মনোরম পরিবেশ মাতিয়ে রাখলো আমাদের সারাদিন সারাদিন সবাই নানারকম ভাবে আনন্দ করলো অথচ জায়গাটা একটুও নোংরা হলো না এরাই কি শুধু দেশটাকে ভালবাসে !

Jpeg

 

ফিনল্যান্ড ৩ ( ০৭/০৮/২০১৬)

শনিবার হ্যানকো (Hanko) যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু বাদ সাধলো আবহাওয়া দপ্তর আবহাওয়া দপ্তর জানালো শনিবার আকাশ থাকবে মেঘাচ্ছন্ন ও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা প্রবল রবিবার আকাশ থাকবে ঝকঝকে ও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা নেই বললেই চলে এখানে আবহাওয়া দপ্তরের খবর মোটামুটি মিলে যায় তাই ঠিক হলো রবিবার সকালে রওনা হয়ে রাত করে বাড়ি ফিরে আসবো হেলসিঙ্কি থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে প্রাকিতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ একটি বন্দর শহরের নাম হলো হ্যানকো দুটো পরিবার সাথে কিছু খাবার আর জল নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম সকাল সকাল এসপো পার হতেই শহর ছাড়িয়ে পারি দিলাম গ্রামের পথে ঘন সবুজ অরণ্যের মধ্যে দিয়ে উঁচুনিচু ঝকঝকে রাস্তা আরো কিছুটা যাওয়ার পর দেখলাম দুপাশের বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে চলছে চাষাবাদ যেহেতু এখানকার জমি সমান নয় ,উঁচু আর নিচু ক্ষেতগুলিও নিচ থেকে বেশ কিছুটা ওপরে উঠে আবার নিচে নেমে গিয়ে আবার উঠেছে ওপরে মিরিকের রাস্তার চা বাগানের কথা মনে করিয়ে দেয় এখানে রাস্তায় যেখানে সেখানে গাড়ি দাঁড় করানো যায় না তাই চলন্ত অবস্থায় ছবি নিতে বাধ্য় হয়েছি অসাধারণ দৃশ্য চেখ ফেরানো যায়না প্রায় দুঘন্টার ওপর লাগলো হ্যানকো পৌঁছাতে পৌঁছেই দেখি সামনে দিগন্ত জুড়ে নীল জলরাশি শুনলাম ১৩০ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে রয়েছে এই সমুদ্র সৈকত অসংখ্য মানুষ শুয়ে আছে বালির ওপর এসপোতেও একই জিনিস দেখেছি সারা শরীরে রোদ লাগাতে ব্যস্ত এখানকার মানুষজন সমুদ্রের ঢেউ নেই তাই জলের মধ্যেই বাচ্চাদের জন্য নানা ধরনের খেলার ব্যবস্থা করা আছে বাচ্চারা তিন চার ঘন্টার আগে কেউ জলের থেকে উঠছেনা বেশ কজন ছেলে মেয়েদের দেখলাম রবারের নৌকাবিহারে মত্ত এখানকার লোকেরা এই সামারে পরিবার নিয়ে সারাদিন সমুদ্র সৈকতে আনন্দ করতে ব্যস্ত আমাদের মতো পর্যটকের সংখ্যা এখানে খুবই কম সমুদ্রের মধ্যে বেশ কটা দ্বীপও দেখা যাচ্ছে হ্যানকো ফিনল্যান্ডের এক নামকরা বন্দর নানাধরনের ছোট – বড় অনেক পালতোলা নৌকা দেখা যাচ্ছে বন্দর জুড়ে মাঝে মাঝেই নৌকা নিয়ে সমুদ্র বিহারে নেমে পরছে এখানকার লোকজন গাড়ি নিয়ে বেড়াতে বেরোবার মতো আরকি সারাদিন ধরে সারা শহর ঘুরে বেড়ালাম সাজানো গোছানো সুন্দর একটা চার্চ দেখলাম সমুদ্রের ধারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে গোলাপী রঙের জল মিনার হ্যানকো থেকে বেড়িয়ে এগিয়ে চললাম আরেকটা গ্রামের দিকে দুপাশে জবের ক্ষেত গ্রামের বাড়িগুলো কি সুন্দর , ছোট ছোট বাংলোর মতো কাঠের বাড়ি , মাথায় টিনের চাল মাঝে মাঝে মনে হয় আগে থেকে পরিকল্পনা করে একটা দেশ তৈরী করা হয়েছে সবকিছু জায়গা মত গ্রাম ছাড়িয়ে আবার পড়লাম জঙ্গলের মধ্যে দুপাশে ঘন জঙ্গল হঠাৎ সামনে তাকিয়ে দেখি ছোট ছোট কটা বল্গা হরিনের বাচ্চা রাস্তা পার হচ্ছে এ এক বিরল অভিজ্ঞতা বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাত দশটা তখনও আকাশে রয়েছে সূর্যের আলো আর সেই আলো ছড়িয়ে পড়েছে আমাদের সবার চেখে মুখে অকৃত্রিম এক আনন্দ

Jpeg

ফিনল্যান্ড ৪ ( ০৮/০৮/২০১৬)

বাড়ির সামনে চারটে বড় বড় বাজার আছে যেখানে সব পাওয়া যায় তিনটে বাজার মলের মধ্যে ও আরেকটা এশিয়ান বাজার , কাছেই একটা বাড়ির নিচের তলায় হঠাতই এশিয়ান বাজারে একটা ভালো ইলিশ মাছ পাওয়া গেল কালো জিরাও এশিয়ান বাজারেই পাওয়া গেল গোটা সর্ষে আমরা দেশ থেকে নিয়ে এসেছি কিন্তু তেল ? অনেক রকমের তেল আছে কিন্তু সর্ষের তেল পাচ্ছিনা কাছাকাছি সব দোকান দেখা হলো কোথাও নেই ইলিশ মাছ সর্ষের তেল ছাড়া ভাবতেই পারছি না ছেলে বললো ওর অফিসের সামনে একটা ভারতীয় বাজার আছে কাল ওখানে খোঁজ করবে মনে পড়ল গতবার ওখান থেকেই সর্ষের তেল এনেছিলাম অবশেষে পাওয়া গেল সর্ষের তেলফিনিসে ইলিশ খাওয়ার স্বাদ পূর্ণ হলো

ফিনল্যান্ডের ওপর দিয়ে উড়োজাহাজে আসার সময় জানলা দিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখছিলাম নীল জল আর সবুজ বন পরে বুঝলাম নীল জল হলো বাল্টিক সি সহ অসংখ্য লেক এবং সবুজ বন হলো সারা শহর জুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগুনতি গাছ পালা আমাদের দেশে শীতের পর আসে বসন্ত কাল আর এখানে বসন্তের পরে শীত সারা ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য ম্যাপেল গাছ সারা পৃথিবীতে প্রায় ১২৫ রকমের ম্যাপেল গাছ আছে বাড়ির সামনে যতগুলো ম্যাপেল গাছ দেখছি পাতার রঙ এখন ঘন সবুজ শীতকালে সব পাতা ঝরে যাওয়ার আগে রাঙিয়ে দিয়ে যাবে নানা রঙে বোঝা যাবে বসন্ত জাগ্রত দ্বারে লন্ডনেও গতবার এমনি শোভা দেখেছিলাম

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থার ক্রমানুসারে ফিনল্যান্ডের শিক্ষা ব্যবস্থা এক নম্বরে স্কুলের বাইরে এখানে টিউসনের কোনো দরকার নেই আর আমাদের দেশে টিউসন ছাড়া চলবে না ছেলেমেয়েদের বইয়ের ব্যাগ নিয়ে টিউসন যেতে এখানে দেখা যায় না অনেক চেষ্ঠা করেও পান আর গুটকা খেতে এখানে কাউকে দেখিনি রাস্তা – ঘাটে , স্টেশনে , সমুদ্র সৈকতে কোথাও দেখতে পাইনি পান আর গুটকার দাগ সত্য সেলুকাস, কি বিচিত্র আমাদের দেশবাসী গতবার ভিসার জন্য দিল্লী যেতে হয়েছিল এখন কলকাতাতে অফিস হওয়াতে আর দিল্লী যাওয়ার প্রয়োজন নেই তিন মাসের বেশি ভিসার দরকার হলে শুধু দিল্লী যেতে হবে

কাল বিকালে এসপো থেকে ১৩২ নম্বর বাস ধরে চললাম হেলসিঙ্কি যেহেতু এখানে বাঁদিকে গাড়ির স্টিয়ারিং তাই বাস ধরার জন্য আমাদের দেশের উল্টোদিকে দাঁড়াতে হয় সামনের গেট দিয়ে এক এক করে সবাই উঠে ড্রাইভারের কাছ থেকে টিকিট কেটে ভিতরে যাচ্ছে আর যাদের বাস কার্ড আছে তারা গেটের সামনেই একটা ছোট মেসিন আছে তার সামনে কার্ডটাকে ধরতে হচ্ছে বাসগুলো আমদের দেশের এসি বাসের মতো শুধু দরজা আর ড্রাইভারের বসার জায়গা উল্টোদিকে

Jpeg

ফিনল্যান্ড – ৫ ( ১৭/০৮/২০১৬)

আমার ছোট ভাইয়ের বড় মেয়ে থাকে জার্মানি আমাদের কাছে ফিনল্যান্ডে কয়েকদিনের জন্য় বেড়াতে এসেছে তাই আবার ঠিক হলো সৌমেনলিনা দ্বীপযাওয়ার ১৭ ই অগাস্ট বিকালে আমরা সবাই মিলে অর্থাৎ আমি ,আমার স্ত্রী বেবি , বড় ছেলে সায়ক আর ছোট ভাইয়ের মেয়ে মিষ্টু স্টিমারে করে সোজা চলে গেলাম সৌমেনলিনা দ্বীপ মুম্বাইয়েরগেট অফ ইন্ডিয়াথেকেএলিফান্টাযাওয়ার মতো স্টিমারে কুড়ি মিনিট মতো লাগে ছোট্ট একটা দ্বীপ অসাধারণ জায়গা চারিদিকে সমুদ্র তার মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটা জায়গা যেখানে ৩০০০ হাজার বছর আগেও মানুষ ছিল তার নিদর্শন পাওয়া যায় ইউনেস্কোর হেরিটেজ লিস্টে এই জায়গাটার নাম আছে আমাদের দেশে পাথরে বানানো বিভিন্ন দুর্গের মত এখানে চারিদিক ঘেরা একটা দুর্গ আছে চারদিকে রাখা অনেকগুলি আগেকার কামান জলের দিকে মুখ করে রাখা যাতে জলপথে কেউ আক্রমন করলে দুর্গকে বাঁচাবে এইসব কামান ইতিহাসের সাক্ষী হিসাবে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের অনেক নিদর্শন এখানে দেখা যায় যুদ্ধের জন্য বানানো দূর্গ প্রচুর বাঙ্কার উপর থেকে দেখলে বোঝাই যাবে না সৈন্যদের থাকার জায়গা গতবার এসেছিলাম শীতের সময় সমুদ্রের জলের রং ছিল নীল কিন্তু চারিদিক ছিল সাদা চাদরে ঢাকা হালকা বরফের আস্তরণে ঢাকা ছিল সবকিছু আর এখন চারিদিক সবুজে সবুজ নানা রঙের ফুল এই ছোট্ট দ্বীপটাকে রাঙিয়ে দিয়েছে পাখির কলরবে মুখরিত সবদিক অপূর্ব সুন্দর একটা জায়গা পিকনিক করার পক্ষে আদর্শ গরমের সময় এখানকার লোকেরা পিকনিক করে , আমাদের উল্টো কারণ এখানকার গরমকালে অনেকক্ষণ সূর্য থাকে এবং ঠান্ডা বেশ কিছুটা কম দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় রাশিয়া বা সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ফিনল্যান্ড বা জার্মানির লড়াইয়ের ইতিহাসে এই জায়গার অনেক ঘটনা আছে মস্কো মাত্র ১০২০ কি.মি দূর যাইহোক ইতিহাসের আলোচনায় যাচ্ছিনা এখানে একটা সুন্দর চার্চ আছে বেশ কয়েকটা রেস্তরাঁ একটা ছোট জাদুঘর আছে তিন চার ঘন্টা কাটানো কোনো ব্যাপারই নয় নানা দেশীয় পর্যটকদের ভির এখানে

আবার স্টিমারে করে ফিরলাম হেলসিংকি রাত্রে এখানকার সবচেয়ে বড় একটা ভারতীয় রেস্তরাতে খাওয়ার ইচ্ছা নাম ইন্ডিয়া হাউস আটটা নাগাদ ডিনারের জন্য ঢুকলাম সুন্দর সাজানো গোছানো , একসাথে প্রায় ১০০ উপরে লোক বসতে পারে অপরিচিত গন্ডির মধ্যে পরিচিত মানে দেশীয় কিছু মানুষদের দেখে বেশ ভালো লাগছিল আরো ভালো লাগলো হিন্দি কথা শুনে মনে হচ্ছিল দেশেই আছি বিদেশে আসলে দেশীয় সব ভাষা যেন আরো মিষ্টি লাগে দেশ নিয়ে অনেক ব্যাপারে আমরা নিজেদের মধ্যে সমলোচনা করি ঠিকই কিন্তু বিদেশে আসলে দেশপ্রেম ভালই উপলব্ধি করা যায় খাওয়াটা বেশ ভালই হলো এখানে টিপস দেওয়ার চল নেই এমনকি ভারতীয় রেস্তরাতেও টা টা ও শুভরাত্রি জানিয়ে বেরিয়ে আসলাম ইন্ডিয়া হাউস থেকে

Jpeg

ফিনল্যান্ড – ৬ ( ২২ /০৮/২০১৬)

গত শনিবার ২১/০৮/২০১৬ আবার হেলসিঙ্কি থেকে দ্বিতীয়বারের জন্য রওনা হলাম তালিন , ফিরলাম রবিবার রাত্রে এবারও সেই বিশাল দশ তোলা জাহাজ মনে হচ্ছিল একটা চলমান বড় পাঁচ তারা হোটেল কেউ কেবিন ভাড়া নিয়ে যাচ্ছে , কেউবা ডেকে বসে আড্ডা দিতে দিতে যাচ্ছে , আবার কেউ কেউ বিভিন্ন রেস্তরাতে বসে সময় কাটাচ্ছে , কেউবা ক্যাসিনোতে চারিদিকে অনেক টিভি লাগানো কয়েকজনদের দেখলাম ভিড় করে খেলা দেখছে অলিম্পিকে জার্মানি আর ব্রাজিলের বার রয়েছে বেশ কটা কোনটাতে হচ্ছে গান আর কোনটাতে নাচ কিন্তু সবকিছুই হচ্ছে সুশৃঙ্খলভাবে জাহাজে সব মিলিয়ে দুই থেকে আড়াই হাজার লোক ধরে অবাক লাগলো যখন দেখি একটা রেস্তরাতে খাবার ওজন করে বিক্রি হচ্ছে পর পর প্রচুর আমিষ ও নিরামিষ খাবার রাখা আছে , পছন্দ মত খাবার প্লেটে নিয়ে যেতে হবে ক্যাশ কাউন্টারে প্লেটটা খাবার সমেত ওজন করার যন্ত্রে রাখতে হবে দাম ১০০ গ্রাম ২০ সেন্ট , যেকোনো কোল্ড ড্রিঙ্কস ১ ইউরো আমরা ছিলাম সর্বঘটে কাঠালী কলার মত সব আনন্দ কিনে নিচ্ছিলাম পরিচ্ছন্নতা এদের মজ্জাগত তাই সর্বত্রই ঝকঝকে ও তকতকে যেখানে খুশি কাটানো যেতে পারে আর পাবলিক টয়লেট আমাদেরকে লজ্জা দেয়

প্রথমবার গেছিলাম নভেম্বরের শেষের দিকে অর্থাৎ এখানকার শীতকালে আর এবার এখানকার গরমকালে শীতের দাপটে গতবার পর্যটকের সংখ্যা ছিল কম , কিন্তু এবার তালিন যেন সেজে উঠেছে মনে হচ্ছে বিশ্বের নানা জায়গা থেকে পর্যটক জমা হয়েছে এই তালিনের টাউন হল স্কোয়ারে রবিবার তালিনের তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড ভোরবেলা তালিনের মাটিতে পা রাখলাম তালিন হলো এস্তোনিয়ার রাজধানী ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নে যদিও এখানকার ৬০ ভাগ লোক রাশিয়ান ভাষাতেই কথা বলে জার্মান আর সোভিয়েতের দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়কার অনেক ইতিহাস বহনকারী এই তালিন এবারও আমরা আধুনিক তালিনের দিকে না গিয়ে মধ্যযুগীয় তালিন দেখতেই পছন্দ করলাম বিশ্বের অধিকাংশ পর্যটকদের সাথে আমাদের পছন্দের মিল খুঁজে পেলাম ১০০০ বছরের পুরানো শহর , বাড়ীঘর গল্পে দেখা ‘ফেয়ারি টেলস’ এর মতো মনে হচ্ছিল গল্পে দেখা রাজকন্যা থাকে, ওই সাত সাগর আর তের নদীর পারে কিছু কিছু রেস্তরাঁর সাজসজ্যা, আসবাবপত্র ঐ সময়টাকে ধরে রেখেছে পার্লামেন্ট , বেশ কটা অপূর্ব সুন্দর চার্চ ,ক্যাথিড্রাল দেখলাম সবই মধ্যযুগীয় স্থাপত্য পর্যটকদের আনন্দ দেওয়া এবং সংস্কৃতির প্রচারের জন্য অনেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল আবার দুপুরে গতবারের মত ‘মহারাজা’ নামে একটা ভারতীয় রেস্তরাঁতে খেলাম পরিচয় হলো এক বাংলা দেশীয় যুবকের সাথে যে এখানে মাস্টার ডিগ্রী করছে এবং অবসর সময়ে এই হোটেল কাজ করছে এইরকম ছেলে মেয়ে সারা ইউরোপে অনেক ছড়িয়ে আছে প্রতিটা প্রগতিশীল দেশের মত যে কোনো কাজের সন্মান আমরা কবে দেবো ?

Jpeg

ফিনল্যান্ড – ৭ ( 29/08/2016)

গত শনিবার সকালে আমরা রওনা হয়ে ফিরলাম রবিবার রাত্রে উদেশ্য় ছিল YYTERI BEACH এবং TURKU CITY আর শনিবার রাত্রে থাকব একটা ছোট্ট গ্রামে , এখানকার গ্রামের স্বাদ নেওয়ার জন্য

YYTERI BEACH: 250 km from Helsinki the sandy beaches are several kilometres long, with a soft, shallow bottom. In the summer the beach life is very active, with holiday makers arriving from all over Finland as well as abroad.

Turku: For many centuries, Turku was the capital and largest city in Finland, before it was surpassed by Helsinki, the current capital. It was also always Finland’s major western port city, which allowed it to grow and thrive. The Aura River runs through the city’s charming center, and in the summer you can take advantage of the boat bars that open up during the endlessly light, warmer months

Night stay at small village in Finland.

30/08/2016

আগে থেকেই ঠিক ছিল তাই শনিবার সকাল সকাল তৈরী হয়ে নিলাম সবাই কিছু খাবার খেয়ে আর কিছু নিয়ে পারি দিলাম পরী যেখানে YYTERI BEACH আছে আমরা যেখানে থাকি সেখান থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূর এখানে কোল্ড ড্রিঙ্কস ও বিয়ারের থেকে জলের দাম কিনতে গেলে বেশি তাই জলের বোতল সাথে রাখা ভালো যেখান থেকে খুশি ভরে নেওয়া যাবে আমরাও তাই সাথে জল নিয়ে নিলাম শহর ছাড়িয়ে আঁকা বাঁকা , উঁচু নিচু রাস্তা দিয়ে চারিদিক দেখতে দেখতে এগিয়ে চললাম গন্তব্যের দিকে কখনো দুপাশে পাচ্ছি অরণ্য আবার কখনো শস্য়ক্ষেত গান গাইতে গাইতে আর চারিদিকের শোভা দেখতে দেখতে পৌছে গেলাম YYTERI BEACH প্রায় ৬ কিলোমিটার জুড়ে সাদা বালুর সৈকত সমুদ্রের গর্জন বেশ দূর থেকেই শোনা যাচ্ছিল হাওয়া চলছিল খুব জোরে নীল জলের ব্যাপ্তি ছিল বিশাল মনে হচ্ছিল পৃথিবীর শেষ প্রান্তে পৌচ্ছে গেছে প্রচুর পর্যটক বিভিন্ন adventurous sports এর আয়োজন ছিল নীল আকাশ তার সাথে টুকরো টুকরো মেঘের আনাগোনা , সামনে বিশাল নীল জলরাশি , সাদা বালুর চর , সমুদ্রের গর্জন আমাদের সবার মন দিয়েছিল মাতিয়ে সমুদ্রের পাশে অনেক সুন্দর সুন্দর থাকার জায়গা আছে কিন্তু যেহেতু আমাদের ইচ্ছা এখানকার ছোট একটা গ্রামে থাকার তাই সদলবলে চললাম গ্রামের দেশে আগে থেকেই ঠিক করা ছিল তাই গ্রামের বাড়ির মালকিন আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন আমরা পৌছাতেই আমাদের সব বুঝিয়ে আমদের হাতে বাড়ির চাবি দিয়ে ওনি অন্য বাড়ি চলে গেলেন অনেকটা জায়গা নিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কয়েকটা ঘর নিয়ে একটা বাড়ি বাড়ি সংলগ্ন জমির পর বিশাল ক্ষেত দুরে দেখা যাচ্ছে কিছু বাড়ি আমদের দেশের গ্রামের মত কিন্তু ঘরে আছে ইন্টারনেট , ট্যাপ ওয়াটার , ইলেকট্রিসিটি , মডুলার কিচেন , সুন্দর খাট , টিভি, রেফ্রিজারেটর সবই যা শহরের বাড়িতে দেখা যায় এখানে কোথাও খোলা নালা দেখা যায় না তখনও আকাশে বেশ আলো , আমরা বেড়িয়ে পরলাম গ্রামের উদ্দশ্যে দুপাশে ক্ষেত তার মধ্যে দিয়ে ছোট রাস্তা সবাই সবার মত করে ছবি তুলছি এমন সময় এক ভদ্রলোক সাইকেল করে আমাদের কাছে এসে জানতে চাইলেন আমরা কে এবং এখানে কেন এসেছি প্রথমেই আমাদের মাথায় আসলো বোধহয় IB হবে বললাম আমরা পর্যটক, গ্রাম দেখতে এসেছি কি দেখে জানিনা ওনি জানতে চাইলেন আমরা ভারতবর্ষ থেকে এসেছি কিনা আমরাও অবাক একটা জিনিস ভালো লাগলো যে ইউরোপের শেষ প্রান্তে এত দুরে একটা গ্রামে আমাদের দেশের নাম জানে মনে মনে একটু গর্বিত হলাম আমরা শুনলাম ওনি মোবাইলে কাউকে বলছেন যে আমরা ভারতবর্ষ থেকে এসেছি আমরাও ধরে নিয়েছি নির্ঘাত IB র লোক আমাদের সাথে সাথেই ওনি ঘুরছেন আর আমাদের সব বলে দিচ্ছেন ক্ষেতের থেকে ফসল তুলে আমাদের খেতে দিচ্ছেন খুবই আন্তরিক বলে মনে হচ্ছে আমাদের মত কোনো পর্যটকদের ওনি এর আগে গ্রাম বেড়াতে দেখেননি অনেকটা ঘুরে আমরা যখন ফিরে আসছি তখন দেখি আমাদের জন্য রাস্তায় দুজন মহিলা দাঁড়িয়ে আছেন পরিচয় করিয়ে দিলেন ওই ভদ্রলোক ওনার স্ত্রী ও মেয়ের সাথে মেয়ে Agriculture নিয়ে বাইরে পড়াশুনা করে এবং ভারতবর্ষ সমন্ধ্যে অনেক কিছু জানে ভবিষ্যতে ওর কৃষক হওয়ার ইচ্ছা অনেক গল্প হলো শুনলাম জার্মান আর সোভিয়েতের যুদ্ধের কাহানী ভদ্রলোকের বাবা ওই যুদ্ধের একজন শহিদ একটা শহিদ বেদী আমাদের দেখালেন ওনাদের সাথে বেশ কটা ছবি রইলো আমাদের স্মৃতি হিসাবে বুঝলাম ওনি ঐ গ্রামেরই লোক, IB র নয় এই প্রথম কোনো বিদেশীকে এগিয়ে এসে আলাপ করতে দেখলাম এর আগে অনেকের সাথে হাসি বিনিময় হয়েছে বা একে অপরকে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি যেগুলোর মধ্যে ছিল লৌকিকতা , ছিলনা এই অকৃত্রিম সরলতা রাত্রে কিচেন ছেড়ে কাঠ দিয়ে আগুন জ্বালানো হলো চারপাশে গোল হয়ে বসলাম আমরা মনে হচ্ছিল camp fire আদিম মানুষের মত ঝলসানো খাবার খেতে খেতে বাঁধন হারা হয়ে গেলাম ওরা গান ধলো –রাত্রি এসে যেথায় মেশে দিনের পারাবারে ………

পরদিন সকালে জলখাবার খেয়ে রওনা হলাম Turku যে শহরটা ছিল ফিনল্যান্ডের আগের রাজধানী শহরের মধ্যে দিয়ে Aura নদী বয়ে গেছে লন্ডনের টেমস নদীর মত তবে Aura নদী লন্ডনের টেমস নদীর থেকে চওড়ায় অনেকটা কম মধ্যযুগীয় স্থাপতের কিছু নিদর্শন এখানে দেখা যায় তারমধ্যে TURKU CASTLE এবং TURKU CATHEDRAL অন্যতম

Jpeg

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s